কে না তার লাইন ম্যানেজার বা বসকে খুশি রাখতে চায়।

কে না চায় তার ম্যানেজার তার আচরণ ও কাজের কারণে তার উপর খুশি থাকুক।

কে না চায় তার ম্যানেজারের সাথে উপরস্থ কর্মকর্তার সাথে তার সম্পর্ক হোক বন্ধুত্বপূর্ণ ও আন্তরিক।

সবাই চায় কাজ দিয়ে, দক্ষতা দিয়ে, অথবা এমন কিছু কৌশল প্রয়োগ করে বসকে সন্তুষ্ট করতে যার ফলে অফিসের পরিবেশ হয় দুর্দান্ত আর সারাদিন ফুরফুরে মেজাজে আত্মবিশ্বাসের সাথে অফিস শেষে বাসায় গিয়ে পরিবারের সাথে দারুন সময় কাটাতে।

সবাই তা চাইলেও সঠিক কৌশলের অভাবে বেশিরভাগ চাকরিজীবীর সাথে তাদের ম্যানেজারের সবসময় একটা দূরত্ব রয়েই যায়। যার ফলে অফিস শেষে বাসায় গিয়েও মুড থাকে বেজায় খারাপ আর অফিসে আসার আগে প্রতিদিন মন থাকে বিষণ্ণ।

সমাধান একটাই, কৌশল জানা চাই।

নিচের কৌশলগুলো একটু পর্যালোচনা করে দেখতে দোষ কি?

 

১- খুঁজে বের করুন আপনার ম্যানেজার কি চাইঃ

বুদ্ধিমান ব্যাক্তি মাত্রই জানার চেষ্টা করে তার ম্যানেজার কি চাই, কিভাবে চাই, কখন চাই, কেন চাই। সে জানে তার ম্যানেজারের দুর্বলতা কোথায়। কিন্তু কখনোই তোষামোদি করতে যাবেন না। বস কি বলে তা মনোযোগ দিয়ে শুনবেন। তিনি কোথাও ভুল করলে বা তার কোন কৌশল নিয়ে আপনার পরামর্শ থাকলে কখনোই এভাবে বলবেন না, “স্যার, আপনার প্রস্তাবটা কিন্তু ঠিক না। এটা কখনোই এভাবে কাজ করবেনা”।

একটু সুন্দর করে, হাল্কা সময় নিয়ে বলুন, “স্যার, আপনার প্রস্তাবটা সুন্দর। কিন্তু তার সাথে যদি এটাও বিবেচনা করা যেত……এই বলে আপনি সুন্দর করে আপনার মতামত দিন। তবে এটাও বলে দিন যে, এটা শুধুই আপনার একটা মতামত যা হয়ত স্যারের মতামতকে আরও কার্যকরী করতে সহায়ক হবে”।

দেখেন এর ফলে আপনি কিন্তু আপনার ম্যানেজারকেই ক্ষমতা দিয়ে রেখেছেন আর উনিও খুশি আপনি উনার ভালোর জন্যই চিন্তা করছেন। এরফলে আস্তে আস্তে ভবিষ্যতে উনি আরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে আপনাকে পাশে রাখেবেন। আর আপনিও এই ফাঁকে ম্যানেজারিয়েল কাজের ভাল অভিজ্ঞতা পেয়ে যাবেন একদম ফ্রি তেঃ) ।

তবে আহ্লাদে বিগলিত হয়ে সব বিষয়ে মতামত দিতে যাবেন না। মাঝে মাঝে দেখাবেন যে আপনার এই বিষয়ে জ্ঞান উনার চাইতে কম। তাই মতামত দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন। অনেক সময় ম্যানেজারের ঘনিষ্ট হয়ে যাওয়াটা অফিসের অন্য কলিগরা ভাল চোখে দেখে না। তাই খুব সাবধানে নিজেকে কাজে লাগাবেন। মাঝে মাঝে ম্যানেজারকে গিয়ে বলতে পারেন যে এই বিষয়ে অমুক কলিগ ভাল আইডিয়া দিতে পারবে। এভাবে আপনি কলিগদের মাঝেও ভাল অবস্থান তৈরি করতে পারবেন।

 

২- চিন্তা করুন ম্যানেজারের মতইঃ

খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা পয়েন্ট। আপনি যদি চিন্তা করে ধরে ফেলতে পারেন আপনার ম্যানেজারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো কি কি আর সেই কাজগুলোকে নিয়ে নিজে নিজে চিন্তা করে কিছু ভাল সমাধান ম্যানেজারের অনুমতি নিয়ে উনাকে সরবরাহ করেন। আপনার প্রোমোশন আটকাই কে!!

এটা মনে করবেন না যে ম্যানেজার যদি আমাকেই তার পজিশনের জন্য থ্রেট মনে করে? এটা যে বস ভাববে সে-ই আসলে টিকতে পারবে না। আর আপনি তো হঠাত করে গিয়েই সাজেশন দিচ্ছেন না। আস্তে আস্তে তার সাথে সম্পর্ক তৈরি করে তারপরেই তো দিবেন। আপনার ম্যানেজার হচ্ছে আপনার এক নাম্বার ক্লায়েন্ট আর ক্লায়েন্টকে খুশি করতে পারলেই তো কেল্লাফতেঃ)

 

৩- সবসময় কাছে থাকুনঃ

না, ঘাড়ের উপর পরে থাকতে বলছি না। বলছি ম্যানেজার যেন সবসময় আপনাকে খোঁজ করলেই পায় সেই ভাবে প্রস্তুত থাকুন। আস্তে আস্তে ভাল সমঝোতা হয়ে গেলে তখন আর এত সিরিয়াস না হলেও চলবে।

তবে একটা জিনিস মাথায় রাখবেন, ম্যানেজারের সব কথায় তাৎক্ষনিক সাড়া দেওয়া বা হ্যাঁ বলার বাজে অভ্যাস থেকে দূরে থাকবেন। আপনার লক্ষ্য হচ্ছে নিজের  ব্যাক্তিত্বকে সমুন্নত রেখে ম্যানেজারকে সম্ভব সকল সহযোগিতা করার মাধ্যমে নিজেকে আরও দক্ষ করে গড়ে তোলা ও অফিসে নিজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো।  ফোনে সাড়া দিবেন বা মিস করলে মেসেজের মাধ্যমে জানান যে কেন মিস করলেন। সেই সাথে জানতে চান যে আপনি এখন কল ব্যাক করলে উনি কথা বলতে পারবেন কিনা।

ম্যানেজার কোন জিনিস চাইলে বা কাউকে খুঁজে না পেলে নিজে দায়িত্ব নিয়ে তা সমাধানের ব্যবস্থা করুন। বস কোন ভাল খবর দিলে তাকে অভিনন্দন জানান এবং বলুন যে আপনি এ থেকে কি শিখলেন।

৪-ব্যাক্তিগত উন্নয়নের জন্য টিপস চানঃ

একজন অভিজ্ঞ ব্যাক্তি হিসেবে সবসময় ম্যানেজারকে সম্মান করুন আর সময় চেয়ে নিয়ে উনার কাছ থেকে মুল্যবান কৌশল শিখার চেষ্টা করুন। আপনার কোন একটা মেইল বা প্রজেক্ট প্রপোজাল কাউকে পাঠানোর আগে এমনিতেই ম্যানেজারকে দেখান আর উনার মতামত চান। যদিও আপনি জানেন এটা অনেক ভাল হয়েছে কিন্তু আপনার ম্যানেজারকে দেখানোর ফলে উনি নিজেও এটার একটা অংশ হিসেবে সম্মানিত বোধ করবেন।

 

৫-ব্যাক্তিগত ভাবে যোগাযোগ রাখুনঃ

সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যুক্ত হয়ে ম্যানেজারের আচরণ, পছন্দ সবকিছু অনেক সহজেই জানতে পারবেন। উনার জন্মদিনে সারপ্রাইজ পার্টী করতে পারেন আর ভাল উপহারের ব্যবস্থা করতে পারেন। উনার ব্যাক্তিগত কোন জরুরী প্রয়োজনে অবশ্যই সাড়া দিবেন। আপনি নিজেও সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাল ভাল কন্টেন্ট শেয়ার করবেন, কোথাও কোন ভাল লিখা পরলে তা উনার সাথে শেয়ার করবেন যাতে উনি উপকৃত হন। অফিসে এসেও এ বিষয়ে কথা বলার সুযোগ পেয়ে যাবেন যা আপনাদের আরও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করবে।

মূল বিষয় কিন্তু মাথায় রাখবেন, আপনি ম্যানেজার হলে কি করতেন বা কি চাইতেন, সেই ভাবে চিন্তা করে কাজ করতে পারলেই কিন্তু আপনি হিট!!!!!

 

তো আর বসে আছেন কেন? লেগে পড়ুন নিজের মত করে ম্যানেজার ও কোম্পানিকে নিয়ে একসাথে এগিয়ে যাওয়ার  কাজেঃ)

 

Website | + posts

𝗖𝗛𝗜𝗘𝗙 𝗠𝗢𝗩𝗘𝗠𝗘𝗡𝗧 𝗠𝗔𝗞𝗘𝗥 and Corporate Trainer at Corporate Academy, 𝗣𝗮𝘀𝘀𝗶𝗼𝗻𝗮𝘁𝗲 𝘁𝗼 𝗵𝗲𝗹𝗽 𝗽𝗿𝗼𝗳𝗲𝘀𝘀𝗶𝗼𝗻𝗮𝗹𝘀 𝗳𝗶𝗻𝗱𝗶𝗻𝗴 𝘁𝗵𝗲𝗶𝗿 𝗯𝗶𝗴𝗴𝗲𝗿 𝗽𝘂𝗿𝗽𝗼𝘀𝗲 𝗼𝗳 𝗹𝗶𝗳𝗲✳️

Leave a Reply

Your email address will not be published.